বিশ্বকাপ মানে বিরাট আয়োজন, আসন্ন বিশ্বকাপে রেফারিং ব্যবস্থায় ফিফা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগামী ১১ জুন মধ্যরাতে মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮টি দেশ এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে এতো দেশ অংশ নেয়নি। তবে এবার খেলোয়াড়দের আচরণেও কড়াকড়ি নিয়ম আনা হয়েছে। ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা এসব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) ঘোষণা করেছেন নতুন নিয়মটি, যা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফলাফলই বদলে দিতে পারে। এখন থেকে কর্নার বা ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগে আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় স্পষ্ট ফাউল করলে এবং সেই ফাউলের সরাসরি প্রভাব গোল, পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে পড়ে, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
যদি ভিএআর মনে করে কোন ফাউল স্পষ্ট এবং সেটির কারণে গোল বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে, তাহলে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের সুপারিশ করা হবে। রেফারি ভিডিও দেখে নিশ্চিত হলে গোল বাতিল হতে পারে, প্রয়োজনীয় কার্ড দেখানো হবে এবং কর্নার বা ফ্রি-কিক পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এমনকি চোটের অজুহাতে মাঠের বাইরে গিয়ে দলীয় আলোচনা বন্ধ করা হবে।
ভুলবশত দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের ঘটনায়ও সীমিত পরিসরে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে সেটি পর্যালোচনা করা যাবে। ভিএআর গোল কিক হওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে কর্নার কিক দেওয়া হয়েছে কি না তাও দেখবে। খেলোয়াড়রা হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারিরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। যদি সেটি উত্তেজনাপূর্ণ বা গোপন যোগাযোগ বলে মনে হয় তা হলে লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে। স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি হবে না।
খেলার গতি নষ্ট করা এবং চিকিৎসা চলাকালে মাঠের মধ্যে দলীয় বৈঠক করার প্রবণতা বন্ধ করতে চায় ফিফা। অনেক সময় দেখা যায় গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসা নিচ্ছেন আর তাদের খেলোয়াড়ের টাচলাইনে গিয়ে কোচের নির্দেশনা শুনছেন এসব থেকে বিরত থাকার নিয়ম এবার যুক্ত করতে যাচ্ছে ফিফা।
ফুটবলের নিয়মে এই পরিবর্তনগুলো বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনাকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্যেই আনা হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।
সূর্যয় / আয়না নিউজ