বিশ্বকাপ ফুটবলে ম্যাচের গতি ধীর করা, অহেতুক সময় নষ্ট করা এবং অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ বন্ধ করতে মাঠে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তিতে এটি বড় পরিবর্তন। এই নিয়মে গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়লে অন্য কোনো খেলোয়াড় সাইডলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে নতুন কোনো কৌশল বা পরামর্শ নিতে পারবেন না।
ম্যাচের গতি নষ্ট করতে অনেক সময় গোলরক্ষকরা মাঠে ইনজুরির ভান করে শুয়ে পড়েন এবং এই সুযোগে বাকি খেলোয়াড়রা কোচের কাছে গিয়ে এক ধরনের ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট নেন। এখন থেকে এমনটা হলে খেলোয়াড়দের মাঠে নিজেদের অবস্থানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তবে এই নিয়ম ভাঙলে রেফারিরা খেলোয়াড়দের কেবল বাধা দেবেন, এর জন্য কোনো হলুদ কার্ড বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফিফা রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলের কোচদের সঙ্গে এরই মধ্যে ওয়ার্কশপ করে এই নতুন নিয়মগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রেফারিদের এ ব্যাপারে বেশ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ের মধ্যকার একটি ম্যাচে বল কিক করার আগেই ইংলিশ খেলোয়াড় অ্যাডাম ওয়ার্টন উরুগুয়ের ডিফেন্ডারকে বেআইনিভাবে আটকে দেওয়ায় ইংল্যান্ড গোল পেয়েছিল, যা নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়। তবে নতুন এই নিয়মটি কেবল আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ফাউলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, ডিফেন্ডারদের বক্সের ভেতর জার্সি টেনে ধরার মতো ফাউলের ক্ষেত্রে নয়। এখন থেকে ফ্রি-কিকের সময় বল মাঠে গড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে যদি আক্রমণভাগের কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে বেআইনিভাবে ফাউল করেন, তবে ভিএআর তা খতিয়ে দেখে গোল বাতিল করতে পারবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠের ভেতর ঝগড়ার সময় মুখ ঢেকে রাখেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে এমন আচরণ করে বেনফিকার এক খেলোয়াড় ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এ নিয়মে সবচেয়ে চমকপ্রদ নিয়মটি হলো মাঠের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ রুখতে। মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত ঝগড়ার সময় হাত, জার্সি বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার প্রবণতা এখন থেকে নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া সময় অপচয় রোধে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছে ফিফা। এখন থেকে থ্রো-ইন এবং গোল-কিক নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ ৫ সেকেন্ড সময় পাবেন। এর চেয়ে বেশি দেরি করলে থ্রো-ইন চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে আর গোল-কিকের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দল কর্নার কিক পাবে। পাশাপাশি, মাঠ থেকে উঠে যাওয়া বদলি খেলোয়াড়কে নিকটবর্তী সীমানা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে বের হতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে, বদলি খেলোয়াড়কে অন্তত ১ মিনিট সাইডলাইনে বসে থাকতে হবে এবং দলটিকে সেই সময়টায় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে।
এমনকি কোনো খেলোয়াড় মাঠে চিকিৎসা নিলে তাকে পরবর্তী ১ মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। মূলত মাঠের গতি ধীর করা, অহেতুক সময় নষ্ট করাসহ অসুলভ আচরণ বন্ধ করতেই ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এমন কৌশল।
সূর্যয় / আয়না নিউজ