জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, জাপানের মতো উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজে প্রবাসীদের সততা ও দায়িত্বশীল আচরণই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
রোববার (৩ মে) জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কশিগায়া শহরের গামো হলে ইসলামিক মিশন জাপান আয়োজিত ‘কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবির-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাপান বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। তিনি প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ দেশের পুনর্গঠনে কাজে লাগাতে হবে।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তা টেকসই করতে প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি মুমিনদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সত্যের পথে অবিচল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ পুনরায় কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় পরামর্শ সভা গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিতে নির্বাচিত সদস্যরা হলেন— ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মাজেদুল ইসলাম, নিয়ামত উল্লাহ, আবদুল মালেক, এটিএম মিছবাহুল কবির, মীর আলি আহকাম লিখন, সারোয়ার আলম সিদ্দিকী ও ড. শাহরিয়ার কামাল।
অনুষ্ঠানে ১৩ জন নতুন সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে জাপানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ