দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজের পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ক্লাউডিয়া চৌধুরী অবশেষে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। নিজের পিতৃত্ব ও পরিচয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়ে তিনি আদালতে আবেদন করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) রাজশাহীর বিজ্ঞ আদালতে ক্লাউডিয়া চৌধুরী নিজেই বাদী হয়ে চিকিৎসক ডা. শিপ্রা চৌধুরী এবং তার সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত মো. নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতারণা, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে পরিচয় পরিবর্তন, জোরপূর্বক হলফনামা করানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে ক্লাউডিয়া দাবি করেছেন, তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কন্যা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাকে সামাজিক ও আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা, সামাজিক পরিচয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাকে নানামুখী জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মের পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার পরিচয়ের বিষয়টি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। এ কারণে তিনি নিজের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ক্লাউডিয়ার আইনজীবী বলেন, একজন মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে নিজের পরিচয় জানার এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়ার অধিকার অন্যতম। আদালতের মাধ্যমে এই অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে মামলাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিচয়ের স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদার প্রশ্ন।
আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য চেয়েছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী শুনানির তারিখে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে আছেন ক্লাউডিয়া চৌধুরী ও তার পরিবার।
নিজের আবেদনে ক্লাউডিয়ার একটাই প্রশ্ন“আমি কে?” সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তার আইনি লড়াই।
হাফিজ/ আয়না নিউজ