| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যে দেশের পতাকা বাংলাদেশের মতো

  • আপডেট টাইম: 17-06-2026 ইং
  • 186 বার পঠিত
যে দেশের পতাকা বাংলাদেশের মতো

ওশেনিয়া মহাদেশের এক ছোট্ট ও সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্রের নাম পালাউ। এর রাষ্ট্রীয় নাম রিপাবলিক অব পালাউ বা পালাউ প্রজাতন্ত্র। মাত্র ৪৫৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটিতে রয়েছে প্রায় ২৫০টি ছোট বড় দ্বীপ। পালাউ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী মেলিকিওক। দেশে জনসংখ্যা মাত্র ২১ হাজারের কিছু বেশি। এই অল্পসংখ্যক জনগণের সবাই আবার ভিন্ন ভিন্ন দ্বীপে বাস করে। পালাউয়ে দুই হাজার বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। 

দেশটির নাম অনেকের কাছে অপরিচিত মনে হলেও, এর জাতীয় পতাকা দেখলে যে কোনো বাংলাদেশির চোখ আটকে যেতে বাধ্য। বংলাদেশের পতাকার সবুজের জায়গায় নীল আর লালের জায়গায় হলুদ দিলেই পালাউয়ের পতাকা।  ডিজাইনে মিল থাকলেও দুটি পতাকার রঙের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়, আর পালাউ তাদের বর্তমান পতাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ নকশার দিক থেকে পালাউ আমাদের অনেক পরের।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। 

১৯৮০ সালে একটি জাতীয় পতাকা নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হাজারো আবেদনের মধ্য থেকে জন ব্লাউ স্কেবং (John Blau Skebong) নামক এক ব্যক্তির নকশাটি বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়। স্কেবং চেয়েছিলেন এমন একটি পতাকা তৈরি করতে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য দেশ থেকে আলাদা হবে এবং পালাউয়ের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলবে।

পালাউয়ের পতাকা নীল সাগরে হলুদ চাঁদ যার প্রতিটি রঙের গভীর অর্থ রয়েছে। এই গাঢ় নীল রং প্রশান্ত মহাসাগরকে নির্দেশ করে। এই বিশাল সমুদ্রই পালাউয়ের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রধান উৎস। পাশাপাশি এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। বাংলাদেশের পতাকায় লাল বৃত্তটি উদীয়মান সূর্যের প্রতীক হলেও, পালাউয়ের হলুদ বৃত্তটি আসলে পূর্ণিমার চাঁদ।

পালাউয়ের কৃষি ও জীবনযাত্রার ছন্দ নিয়ন্ত্রিত হয় চাঁদের দশার ওপর ভিত্তি করে। তাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন, পূর্ণিমার চাঁদ হলো নতুন শুরুর প্রতীক। মাছ ধরা থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সবকিছুই চাঁদের হিসেব মেনে সম্পন্ন করা হয়। এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই স্কেবং সূর্যের বদলে চাঁদকে বেছে নেন।

আজ বৈশ্বিক মঞ্চে যখন নীল-হলুদ রঙের এই পতাকাটি ওড়ে, তখন তা প্রশান্ত মহাসাগরের এক আত্মপ্রত্যয়ী জাতির পরিচয় বহন করে।

আল রাজীব/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪