শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা।
বুধবার (১৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় উভয়েই দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের দায় বা সংশ্লিষ্টতা নেই।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তথ্য প্রচার ও সংবাদ প্রকাশে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এর আগে একই মামলায় গত ১৪ জুন মোজাম্মেল হক বাবুকে এবং ১৭ জুন ফারজানা রূপাকে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, শাপলা চত্বর ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এর আগে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ সংক্রান্ত মামলায় একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
বুধবার (১৭ জুন) তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে তাদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেন এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে ব্যাখ্যা চান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনই অভিযোগের দায় অস্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, ঘটনাসংশ্লিষ্ট যেসব কার্যক্রম বা রিপোর্টিং হয়েছে, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে নয়; বরং “উর্ধ্বতন নির্দেশ” অনুযায়ী করা হয়েছে বলে তারা জানান।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ৫ আগস্টের আগের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে মোজাম্মেল বাবু দাবি করেন, প্রদর্শিত কিছু ফুটেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় তদন্তাধীন।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা বলছে, মামলাটির অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ