| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা

রূপগঞ্জে ৩৪ বছরেও ভায়েলা মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়নি

  • আপডেট টাইম: 04-05-2026 ইং
  • 136 বার পঠিত
রূপগঞ্জে ৩৪ বছরেও ভায়েলা মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়নি

হাবিবুল্লাহ মীর, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নে অবস্থিত ভায়েলা-মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জাতীয়করণের মুখ দেখেনি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভুঁইয়া প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন। সেই জমিতে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবনেই এখন চলছে পাঠদান। তবে ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিদ্যালয়টির আশপাশে দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ভায়েলা-মিয়াবাড়ি, মুইরাবো, গোপালিয়াবাড়ি, আজিজনগর, ইসলামবাগ ও হুরারবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার শিশুদের একমাত্র শিক্ষার ভরসা এই প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র কিংবা টয়লেট সুবিধা। সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাও অনিশ্চিত। গরমে শিক্ষার্থীরা কষ্টে পড়াশোনা করছে, আর বৃষ্টির সময় টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে, ভিজে যায় বই-খাতা।

২০১৩ সালে সরকার সারাদেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও এ বিদ্যালয়টি সেই তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এরপর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, এলাকার দরিদ্র শিশুদের কথা বিবেচনা করেই তারা বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২০২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

স্থানীয় অভিভাবক আবু বকর বলেন, “শিক্ষার মান ভালো হলেও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিশুরা ভোগান্তিতে পড়ছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আবার বৃষ্টিতে ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামীমা সুলতানা ওমা দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহরুক জাবীন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, “৩৪ বছরেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়া দুঃখজনক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা না হলে ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

হাবিব/ হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪