| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুদ্ধের মধ্যেও নওরোজ ও ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানিরা

  • আপডেট টাইম: 20-03-2026 ইং
  • 162622 বার পঠিত
যুদ্ধের মধ্যেও নওরোজ ও ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানিরা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের মানুষ। শিয়া মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে ২১ মার্চ, আর ২০ মার্চ শেষ হবে রমজান মাস। একই দিনে উদযাপিত হবে ফার্সি নববর্ষ নওরোজ, যা ইরানিদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, রমজানের ৩০তম দিন শেষে শুরু হবে ঈদের ছুটি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকেও একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানিও ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

তবে এবারের উৎসবগুলো একেবারেই ভিন্ন আবহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে, যা দেশটির মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ নাগরিক ও শিশু রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনেক ইরানি নাগরিকের জন্য নওরোজের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তেহরানের কাছে বসবাসকারী এক নারী জানান, আগে এই সময় ঘর পরিষ্কার, নতুন পোশাক কেনা ও নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও এবার সবকিছুই অনেকটা স্তব্ধ। যুদ্ধের কারণে সময় যেন থেমে গেছে বলেও মনে করছেন তিনি।

নওরোজ, যার অর্থ ‘নতুন দিন’, তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি উৎসব। এটি বসন্তের সূচনা এবং নতুন বছরের আগমনকে চিহ্নিত করে। ইরান ছাড়াও পার্সিয়ান, কুর্দি, তাজিকসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে এটি উদযাপিত হয়। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে এবারের নওরোজ অনেকের জন্য অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হামলার আশঙ্কায় মানুষের চলাফেরা কমে গেছে। বাজার ও শপিং সেন্টারগুলোতেও আগের মতো ভিড় নেই। অনেকেই নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন, ফলে পারিবারিক মিলনমেলাও কমে এসেছে।

তারপরও কেউ কেউ চেষ্টা করছেন উৎসবের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। অনেক পরিবার হাফ্ত-সিন টেবিল সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নওরোজের অন্যতম প্রধান রীতি। কেউ কেউ বলছেন, বছরের এই একদিনের উৎসব তারা যেকোনো পরিস্থিতিতেই উদযাপন করতে চান।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ইরানিরা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে আনন্দের পাশাপাশি অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগও এবার তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪