স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন আলোচিত অভিনেতা জাহের আলভী। সেখানে ইকরার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেন তিনি এবং দাবি করেন, এই ঘটনায় তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার মধ্যরাতে দেওয়া ওই পোস্টে আলভী জানান, মিরপুরের বাসার ড্রয়িংরুমে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। তার দাবি, ওই সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ছিল তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা–এর মোবাইল ফোনে, যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পোস্টে আলভী উল্লেখ করেন, গত ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বাসায় ছিলেন না। এই সময়ের মধ্যে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় আসা–যাওয়া করেছেন এবং সেখানে সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপানের আসর বসেছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ইকরার দুই বান্ধবী এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই বান্ধবীর সঙ্গে একজন পুরুষ বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং তারা মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।
আলভী আরও বলেন, দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ইকরা তার এক সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন। সেই সময়ের ঘটনাও সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তার সহকারী ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানান অভিনেতা।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আলভী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির সিসিটিভি ফুটেজ কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয়। যদি তা সরানো হয়, তবে যেন এর সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়— এমন দাবিও জানান তিনি।
অভিনেতার দাবি, ওই তিন দিন এবং ঘটনার মুহূর্তে ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ইকরা, যদিও আগে কখনো বিষয়টি গুরুতর পর্যায়ে যায়নি।
পোস্টে আরও বলা হয়, ঘটনার আগের রাতে ইকরা মদ্যপান বা মাদক সেবন করে থাকতে পারেন। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যেন কোনো ধরনের পরিবর্তন না করা হয়— সে বিষয়েও নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আলভী।
ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল তথ্যও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। আলভীর দাবি, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ের পর তাকে ডিভোর্স না দিয়েই পরিবারের সম্মতিতে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন ইকরা। পরবর্তীতে ইকরা ফিরে এলে তিনি তাকে ক্ষমা করে পুনরায় গ্রহণ করেন বলেও জানান অভিনেতা।
এছাড়া ইকরার এক সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিতও দিয়েছেন আলভী। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।