২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২:০০ টায়) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। দুই দলই চাইবে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে।
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রায়ই রূপকথার মতো উত্থান হিসেবে বর্ণনা করে। ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের জায়গা করে নেয়। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ১৯৯৮ সালে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।
এরপর ধীরে ধীরে তারা বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়ে। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে প্রমাণ করে যে বড় মঞ্চে ক্রোয়েশিয়া এখন আর কোনো অঘটন নয়, বরং স্থায়ী শক্তি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড বরাবরই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হলেও বড় টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘ। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছেই সেমিফাইনালে হেরে তাদের শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায়। সেই স্মৃতি আজও সমর্থকদের মনে প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে ফিরে আসে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স বেশ ধারাবাহিক। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে তারা প্রায় নিখুঁত রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপে এসেছে। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং আক্রমণভাগের ধার তাদের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অভিজ্ঞতা এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। যদিও লুকা মড্রিচের প্রজন্ম তাদের ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে, এই বলকান দলটিতে এখনও অনেক গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে তাদের প্রমাণিত সাফল্যের নজিরও আছে।
দলের মান ও গভীরতার দিক থেকে ইংল্যান্ডকে কিছুটা এগিয়ে বলে মনে করা হয়। তবে, বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ক্রোয়েশিয়া কখনোই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তারা ২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল এবং শিরোপার দাবিদারদের কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি করতে তারা সবসময়ই জানে।
এটি একটি হাড্ডাহাড্ডি ও অত্যন্ত কৌশলপূর্ণ লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইংল্যান্ডের দলে এমন অনেক তারকা আছেন যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার রয়েছে অভিজ্ঞতা এবং সংকটময় মুহূর্তে স্থিরতা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের একটি মুহূর্তই ম্যাচের ফলাফল পুরোপুরি নির্ধারণ করে দিতে পারে।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ