কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর ও দুর্জয় মোড় এলাকার যুবকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৮ জুন) দুর্জয় মোড় এলাকায় এক যাত্রী দুই নারীকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করতে গেলে ভাড়া নিয়ে কমলপুর এলাকার মাইক্রোবাস চালক পলাশের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই ঘটনার জের ধরে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
বুধবার বিকেলে সেই বিরোধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে ব্যাপক সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে। রাত ১২টার পর জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ