চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি গ্রাফিতি লেখা ও তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ার জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ বিকেল পর্যন্ত একাধিক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির নিচে “ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস” লেখা ছিল। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী সেখানে “ছাত্র” শব্দটি মুছে তার জায়গায় “গুপ্ত” লিখে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে অগ্রসর হলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল পর্যন্ত কলেজ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রদলের দাবি, তাদের ৭-৮ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবির জানিয়েছে, তাদের ৫-৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। শিবিরের পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সিটি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও কলেজের সুনাম রক্ষার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। পরিস্থিতির কারণে দুপুর ও বিকেলের শিফটের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, “আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।”
অন্যদিকে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, দুপুর থেকেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ