তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নয়, বরং উন্নয়ন ও জনস্বার্থে রাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, অতীতে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা ভয় দেখানোর প্রবণতা থাকলেও সেই যুগ এখন শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের মতো রাষ্ট্র এখন আর গণমাধ্যমকে চোখ রাঙায় না বরং গণমাধ্যমের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে চায়। এটাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার মৌলিক পার্থক্য।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার সংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন গণমাধ্যমের সব সমস্যাকে একটা জায়গায় এনে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম কমিশন যদি দাঁড় করানো যায়, তবে সেটি হবে ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদ বারবার পাঠ করা দরকার। তখন সেটা সমাজের জন্য অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে কিছু সংবাদমাধ্যম মালিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ এবং সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
হাফিজ/ আয়না নিউজ