| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংসদে মৌলিক বিষয়ে সময় না দেয়াটা দুঃখজনক: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • আপডেট টাইম: 09-04-2026 ইং
  • 299 বার পঠিত
সংসদে মৌলিক বিষয়ে সময় না দেয়াটা দুঃখজনক: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দমননীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। 

সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন দেশের জন্য একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হবে এবং এতে মানবাধিকার সুরক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর ওপর আপত্তি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বিলের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজকের এই সংসদটি যে কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যারা এখানে এসেছেন তারা একটি ক্রান্তিকালীন সময় পার করে এসেছেন। অথচ জাতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে মাত্র ২ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। আমরা সংসদে অনেক বিষয়ে সময় অপচয় করি, কিন্তু এমন মৌলিক বিষয়ে সময় না দেওয়াটা দুঃখজনক।’

২০০৯ সালের আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, এই কমিশনকে বিরোধী দল ও মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে এই কমিশন। এমনকি আমরা কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটিকে ল্যাপস (বিলুপ্ত) করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হবে এই সংসদের জন্য একটি ব্যাকওয়ার্ড মুভ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক এক্সাম্পল হয়ে থাকবে।’

কমিশনের সিলেকশন কমিটির গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের জন্য যে ৬ সদস্যের সিলেকশন কমিটি রয়েছে, সেখানে ৫ জনই সরকারদলীয় ব্যক্তি। 

স্পিকারের নেতৃত্বে সেই কমিটিতে থাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারি দলের একজন এমপি ও একজন সচিব। এমন কমিটির মাধ্যমে গঠিত কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষ কাজ করবে? মূলত এটি একটি সরকারি দপ্তর বা বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে বাহিনীগুলো সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকে, সেখানে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্ত করতে বাহিনীর বা সরকারের পূর্বানুমতি লাগে। সরকার নিজেই যেখানে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে কতটা স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব, তা এ সংসদের সবার জানা।’

উল্লেখ্য, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্রভাবে আপত্তি জানানো হয়।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪