ফ্রান্স, জাপান এবং ওমানের ৩টি ট্যাংকার জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই পাড়ি দিলো হরমুজ প্রণালি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএমএ ক্রিবি নামের ফরাসি ট্যাংকার জাহাজ,জাপানের মিৎসুয়ি ওসকে লাইনস জাহাজ এবং ওমানের জাহাজ শুক্রবার হরমুজ পেরিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী যুক্ত করেছে আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে। বিশ্বে প্রতিদিন তেল ও তরল গ্যাসবাহী যত জাহাজ চলাচল করে, তার ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করায় হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়। এই পথ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক যুক্তরাজ্যে কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে এক ডজনেরও বেশি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি ক্ষেপনাস্ত্র-ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
অন্যান্য অনেক দেশের মতো ফ্রান্স ও জাপানও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছিল। যুদ্ধ এক মাসেরও বেশি সময় অতিক্রম করার পর এই প্রথম ফ্রান্সের জাহাজ তেল নিয়ে ও জাপানের জাহাজ এলএনজি গ্যাস নিয়ে হরমুজ পাড়ি দিলো। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেদিন ৩টি জাহাজ পার হলো সেদিনই কাকতালীয় ভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বক্তব্যে বলেন, “শুধু কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালির অবরোধ তোলা যেতে পারে, সামরিক অপারেশনের মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়।”