ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে তেহরানসহ ইরানের পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায়। ইরানও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর (IRGC) আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর ভবন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালান হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছে। তেহরানে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হাসপাতালে ৩০০ শিশুর পাশাপাশি আহত মানুষের সংখ্যা ৬,০০০ ছাড়িয়েছে।
দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে তাদের ১৯তম দফার হামলা শুরু করেছে বলে ইরানের প্রেস টিভি এবং আইআরজিসি (IRGC) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়। তাসনিম নিউজ আইআরজিসি-র উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে,হামলায় ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ট্রু প্রমিজ-৪’।
ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছের দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। তবে মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত কয়েকদিনের যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ‘ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আলোচনার টেবিলকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’