রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় কয়েকজন শ্রমিক কুপিয়ে আহত হন। এ ঘটনার পর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানাঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক মানুষ হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন।
গ্রেফতার অন্য দুজন হলেন মারুফ ও হাসান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামে এক কিশোর গ্যাং লিডার ঈদকে কেন্দ্র করে তার চাচার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল কারখানায় হামলা চালায় এবং শ্রমিকদের ওপর হামলা করে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার রাসেল ওরফে কালা রাসেলের নেতৃত্বেই হামলার ঘটনা ঘটে। তারা আরও জানান, এ চক্রটি আদাবরের আরেক কিশোর গ্যাং লিডার রানার অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে থাকে। তবে জীবননাশের আশঙ্কায় তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা আদাবর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদাবর থানার সামনে শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকরা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসা ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। পরে শ্রমিকরা থানার সামনে জড়ো হন। আবির এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাসেল ওরফে কালা রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।