ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র 'অনেকটা অগ্রগতি' অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজের 'স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সামনে আরও আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এখন সিদ্ধান্ত ইরানের হাতে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছেড়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। ভ্যান্স দাবি করেন, 'সেখানে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদল কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছিল না। আমাদের দেওয়া শর্তগুলোর অনুমোদন নিতে তাদের তেহরানে ফিরে যেতে হতো। এই অনুমোদন আসতে হবে তাদের সর্বোচ্চ নেতা বা অন্য কারও কাছ থেকে।'
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, 'এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইরানিরা যথেষ্ট নমনীয়তা দেখাবে কি না। চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তারা সেগুলো মেনে নেবে কি না।' তিনি আরও বলেন, 'সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতিও আমাদের পেতে হবে।'
ভ্যান্স মনে করেন, ইরানিরা যদি এসব শর্তে রাজি হয়, তবে দুই দেশের জন্য খুব ভালো একটি চুক্তি হতে পারে।
ইরানকে একটি 'স্বাভাবিক' দেশ হিসেবে দেখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রও খুশি হবে বলে সাক্ষাৎকারে জানান ভ্যান্স। তিনি বলেন, 'ইরান যদি একটি "স্বাভাবিক" দেশের মতো আচরণ করে, তাদের অর্থনীতি যদি স্বাভাবিক হয় এবং সে দেশের মানুষ যদি উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে, তবে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত হব। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বাভাবিক দেশে পরিণত হতে হলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরে আসতে হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি সত্যিই মনে করি এখানে একটি বড় চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে আমার ধারণা, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি এখন ইরানিদের ওপরই নির্ভর করছে।'
ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। তা না করলে আলোচনার মোড় ঘুরে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মার্কিন এই নেতা বলেন, 'নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই আছে। আমাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ আরোপের মাধ্যমে আমরা এখন তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপও প্রয়োগ করছি।'
খায়রুল/ হাফিজ/ আয়না নিউজ