পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। পাহাড়জুড়ে বর্ষবরণকে ঘিরে এখন উৎসবের রঙ, গান, নৃত্য আর মানুষের মিলনমেলা যেখানে নতুন বছরের স্বপ্নে ভরে উঠছে সবার মন। পার্বত্য অঞ্চলে বর্ষবরণ উৎসব আনন্দ,সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এই বর্ষবরণে পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের সংস্কৃতি লালন করার পাশাপাশি বার্তা দেয় পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের।
খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “ফুল বিজু” উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। ফুল বিজু মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। এই দিনটিতে মানুষ প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য। আগামীকাল উদযাপিত হবে চাকমাদের মূল বিজু। আর বাংলা নববর্ষের দিন পালিত হবে ‘গজ্জাপজ্জা’, যা নতুন বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনার অংশ।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রোববার (১২ এপ্রিল) খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া-খালগুলোতে খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীর তীরে ভিড় করে তারা গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন। রঙিন ফুলে ভরা নদীর দুই তীর এমন ভাবে সেজে ওঠে যেন প্রকৃতি নিজেই এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। ফুল ভাসানো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নদীর পাড়ে শত শত মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ১৭২ কোটি টাকা লেনদেন শেয়ারবাজারে
পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। আগামীকাল ত্রিপুরা সম্প্রদায় চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু করবে তিনদিনব্যাপী ‘বৈসু’ উৎসব। ‘হারিবৈসু’ দিনে নদীতে ফুল পূজা এবং শিশুদের অংশগ্রহণে রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘গরয়া নৃত্য’ এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
‘সাংগ্রাইং’ উৎসব পালন করবে মারমা সম্প্রদায় । ১৪ এপ্রিল থেকে তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে বুদ্ধ পূজা, বয়োজ্যেষ্ঠদের পবিত্র জল দিয়ে স্নান করানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘রি-আকাজা’ বা পানি উৎসব, যেখানে সবাই একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
এফএ/ আয়না টিভি