| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খানজাহান আলী মাজারের কুমির বন বিভাগের হেফাজতে

  • আপডেট টাইম: 03-06-2026 ইং
  • 1676 বার পঠিত
খানজাহান আলী মাজারের কুমির বন বিভাগের হেফাজতে

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যুর জের ধরে প্রাণীটিকে খুব শিগগির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আপাতত কুমিরটিকে বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হবে। খানজাহান আলী মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জরুরি সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় মাজারের খাদেম, সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা, মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা কুমিরটিকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখার বিষয়ে একমত হন।

সোমবার রাতে মাজার দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায় আট বছর বয়সী ফাতেমা। শিশুটি দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল বা হাতমুখ ধুতে নেমেছিল, তখন কুমিরটি তার উপর আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন তার মতো কুমিরের আক্রমণের শিকার হতে না পারে সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

মাজারে পর্যটকেরা কুমির দর্শন করতে আসেন, স্থানীয়দের রুটিরুজি আছে, আর্থিক ক্ষতি হবে, তারপরেও আমরা আপাতত কুমিরটিকে দিঘি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিব বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে। একটা মৃত্যু হয়েছে। এরপরেরটা যদি আটকাতে না পারি তাহলে আইনের কাছেও পার পাব না, আইনের কাছে দায়ী হয়ে যাব। একটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সে জীবনটি অমূল্য। আরেকটা ঘটনা আগামীকাল ঘটবে না সেই নিশ্চয়তা কি আমরা দিতে পারি।

কুমিরটিকে আবার ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত অপসারণ করে নিরাপদ একটি জায়গায় রাখব। মাজার দিঘিতে কুমিরের জন্য একটি সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ করে ও কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কুমিরটিকে ভবিষ্যতে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। কুমিরটি শুধু রাখলেই হবে না, সেটা যেন আবার সুস্থ থাকতে পারে সেই উদ্যোগও নেওয়া হবে। আপাতত কুমিরটি বন বিভাগের হেফাজতে থাকবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের জন্য বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। তারা কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহউদ্দিন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যরা বলেন, মাজারে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। এই ঘটনা সবাইকে ব্যথিত করেছে। তাই এখানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই মাজারের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। কুমির যেন নতুন করে আর কাউকে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে। 

সম্প্রতি এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দিঘিতে থাকা কুমিরের বিষয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি ওঠে।

আল রাজীব/ আউনা নিউজ







ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪