রোমানিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার মিরচা লুচেস্কু পাড়ি জমালেন পরপারে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুখারেস্টের এক হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান লুচেস্কু।
মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লুচেস্কুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে জানায়,রোমানিয়ার সফলতম কোচ ও খেলোয়াড়দের একজন মিরচা লুচেস্কু। ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো তার অধীনেই রোমানিয়া ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। রোমানিয়ানদের হৃদয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদার নাম মিরচা লুচেস্কু।
১০ দিন আগে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লুচেস্কু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার ‘হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হওয়া’য় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেদিনই তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন বলে জানিয়েছে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া রোমানিয়ান ফুটবলের মধ্যমণি লুচেস্কু খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে ২০২৪ সালের আগস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে পান আকাশচুম্বী সাফল্য। গত ২৬ মার্চ বিশ্বকাপ প্লে-অফ সেমিফাইনালে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারই ছিল ডাগআউটে তার শেষ ম্যাচ। ১৯৮৪ ইউরোর মূল পর্বে রোমানিয়া তার প্রথম মেয়াদে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে যেখানে কোচ ছিলেন লুচেস্কু। ১৯৮৬ সালে দুই বছর পর রোমানিয়া বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।
ক্লাব ফুটবলে লুচেস্কুর ছিল ঈর্ষণীয় সাফল্য। তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক জানিয়ে লিখেছে, ‘আমাদের উয়েফা সুপার কাপ ও ১৫তম লিগ শিরোপা জয়ের নায়ক মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে ঘুমান লুচে, আমরা আপনাকে কখনো ভুলব না।’ইতালি, তুরস্ক ও ইউক্রেনের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবে ৩০টিরও বেশি শিরোপা জিতেছেন এই কিংবদন্তি।
রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা লুচেস্কু ১৯৭০ বিশ্বকাপে রোমানিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ১০টি গোল করেন এই কিংবদন্তি। ১৯৪৫ সালের ২৯ জুলাইয়ে জন্ম নেওয়া লুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোসর দান শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে পুরো রোমানিয়া শোকস্তব্ধ। তিনি রোমানিয়ান ফুটবলের উত্থানে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের প্রকৃত দূত হিসেবে কাজ করেছেন।’
এফ এ / আয়না টিভি