রাতভর তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে তখনই যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখবে। তার এই শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন শাহবাজ শরীফ, যিনি পাকিস্তান-এর প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা, এমনকি লেবানন অঞ্চলেও, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে শরীফ বলেন, “উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিশেষ ১১ ঘণ্টার প্রস্তাব এবং ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই প্রস্তাব ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করবে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে নিজেদের বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এই সংঘাতে প্রায় সব লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং প্রতিপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর স্বস্তির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ