অবশেষে যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। কাউন্সিল জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তিটিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে কাউন্সিল জানায়, একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পরবর্তী আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও তারা আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছে। এই আলোচনার জন্য প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তা বাড়ানো যেতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অর্জিত সাফল্য উদ্যাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আলোচনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়েরই ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ সময়ে কোনো বিভেদ সৃষ্টিকারী মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি আলোচনার মাধ্যমে সামরিক সাফল্যকে রাজনৈতিক বিজয়ে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তা হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। অন্যথায়, দেশের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের সামান্য উসকানির জবাব দিতেও প্রস্তুত।