| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খাদ্য দূষণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ

  • আপডেট টাইম: 07-12-2025 ইং
  • 302112 বার পঠিত
খাদ্য দূষণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ

খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় করণীয় ঠিক করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাবনা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার ( ৭ ডিসেম্বর ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খাদ্যে দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে তিনি বলেন, খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের দূষণ আমাদের সামনে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিজেদের ও প্রিয়জনদের সুরক্ষার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানান তিনি। জরুরি উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিএফএসএ উদ্বেগজনক তথ্য উপস্থাপন করে জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে প্রতি বছর বিশ্বে ৬০ কোটি মানুষ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি শিশু খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। প্রতি ১০ জনে ১ জন শিশু বছরে অন্তত একবার অসুস্থ হয় এবং আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩ শতাংশ মারা যায়।

বিএফএসএ জানায়, খাবারে চার ধরনের দূষক ভারী ধাতু, কীটনাশক ও জীবনাশকের অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তা এবং জৈবদূষক থাকতে পারে। গত বছর ১ হাজার ৭১৩টি এবং চলতি বছর ৮১৪টি নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত সিসা বা সিসা ক্রোমেট পাওয়া গেছে। ১৮০টির মধ্যে ২২টিতে সিসার উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, ইউনিসেফের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে সাড়ে ৩ কোটি শিশু সিসা দূষণে আক্রান্ত। সিসা শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি, হাড় ও দাঁতে জমা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মানসিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করে। গর্ভবতী নারীদের ৫ শতাংশের মধ্যেও সিসা সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হাঁস-মুরগি, মাছ ও দুগ্ধজাত খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করছে। বিশেষ করে পোল্ট্রি ফার্মে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়টি গুরুতর উদ্বেগজনক। কিছু অবৈধ খামার কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তারা।

বৈঠকে পোল্ট্রি ফার্মগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা এবং কৃষিতে অবৈধ কীটনাশক ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হলেও খাদ্য নিরাপত্তা অনেক সময় উপেক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম এবং পাঠ্যপুস্তকে খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাবরেটরি ব্যবহারের মাধ্যমে সিসা দূষণ নিয়ে সমন্বিত গবেষণা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করেন।

বৈঠকে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, গবেষণা ও জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এখন দেখার বিষয়—এসব নির্দেশনা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪