| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পানি সংকটে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ ইউনিট বন্ধ

  • আপডেট টাইম: 10-06-2026 ইং
  • 34366 বার পঠিত
পানি সংকটে কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ ইউনিট বন্ধ

তীব্র খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে পানির অভাবে ৩টি ইউনিটই বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে যথাসময়ে বৃষ্টিপাত না হলে চালু থাকা বাকি ইউনিট দুটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যে কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে।

কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পানির অভাব, যার কারণে ইউনিটগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান ।

কাপ্তাই হ্রদে পানি ভরা থাকলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুই নম্বর ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ দুটি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকভাবে ৭৮.০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৩.৯৯ এমএসএলে।

কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে পানির স্তর যদি কমতে কমতে ৬৮ এমএসএলে নেমে যায়, তবে তাকে 'বিপজ্জনক' হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ৬৮ এমএসএলে পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানির স্তর বাড়বে এবং তার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ। 

কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং লেকের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষ করে রাঙ্গামাটি দূরবর্তী পাঁচ উপজেলা—বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ির সাথে নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও চরের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

আল রাজীব/ আয়না নিউজ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪