সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে দায়ের করা আপিলের শুনানির তৃতীয় দিন আজ রোববার শেষ হয়েছে। আপিলকারীদের পক্ষের প্রধান যুক্তি হাইকোর্ট পুরো সংশোধনী বাতিল না করে আংশিকভাবে রায় দেওয়া আইনগতভাবে সঠিক হয়নি।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে চলমান আপিল শুনানির তৃতীয় দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে।
আমরা হাইকোর্টে পুরো সংশোধনী বাতিল চাইছিলাম। কিন্তু হাইকোর্ট কিছু অংশ বাতিল করে বাকিটা সংসদের বিবেচনার জন্য রেখেছে যা আমাদের মতে আইনগতভাবে ভুল। আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল করেন, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে ফিরে আসবে।
ড. শরীফ ভূঁইয়া জানান, তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেও আরও দুইজন আপিলকারী এবং পক্ষভুক্তদের শুনানি বাকি রয়েছে।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, নারীদের সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি, ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহালসহ মোট কয়েকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়। এতে রাষ্ট্রক্ষমতা অবৈধভাবে দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও সংযোজন করা হয়।
এই সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানিয়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট করলে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আংশিক রায় দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই লিভ টু আপিল করেন বদিউল আলম মজুমদার, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানসহ মোট ছয়জন আপিলকারী। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন।
আপিলকারীদের দাবি পঞ্চদশ সংশোধনীর সমগ্র অংশই বাতিল হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ।