কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা জিসান আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে এস এম ফরহাদ বলেন, শুক্রবার রাতে পুলিশ জিসানকে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে নিখোঁজ বা অপহরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ধর্ষণ মামলার বাদী লিজা আক্তারের বড় বোনের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য লিজাকে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে লিজা ও তার বাবাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
লিজার বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানিয়েছেন, থানায় নেওয়া, মামলা দায়ের বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। তবে জিসান ও লিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি অবগত ছিলেন।
এস এম ফরহাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ বা বাস্তবতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী জিসান আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ