আগামী অর্থবছরের জন্য ১৮ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন রুপির প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৩ ট্রিলিয়ন রুপি বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।
শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির পার্লামেন্টে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। প্রস্তাবিত বাজেটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক সক্ষমতা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টিও অগ্রাধিকার পেয়েছে।
বাজেট অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ চলে যাবে ঋণ পরিশোধে। আইএমএফসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে আগামী অর্থবছরে ৮ ট্রিলিয়ন রুপিরও বেশি ব্যয় হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলেও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কমানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সরকারের দাবি, নতুন বাজেট অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের আস্থা অর্জন এবং নিরাপত্তা খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, উন্নয়ন ব্যয় কমে যাওয়ায় সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হাফিজয আয়না নিউজ