| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

  • আপডেট টাইম: 09-06-2026 ইং
  • 35867 বার পঠিত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানি পণ্য, রড ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় এসবের দাম বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। এদিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। এটি পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার হতে পারে, যার মধ্যে বড় অংশ নিজস্ব ও বিদেশি অর্থায়ন থেকে আসবে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ এদিকে, বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় করছাড়ের বড় ধরনের সুবিধা দেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু কর অব্যাহতি বা করছাড়ই নয়, বরং ভ্যাট এবং পণ্য আমদানির শুল্ক-করেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মূলত দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতেই এই করছাড় দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক্স খাতকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হতে পারে এবং এই খাতে সর্বোচ্চ ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে এই করছাড় বা কর অব্যাহতির সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের: 

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। রেগুলেটরি শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৬টিতে আনা হতে পারে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য

চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে।

ভোজ্যতেল ও কৃষিখাত

দেশীয় তৈলবীজ থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেলে ১০ বছরের কর অব্যাহতির পরিকল্পনা থাকায় স্থানীয় তেলের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি তেল

রিফাইনারি পর্যায়ে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ

কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের আগাম কর প্রত্যাহার, ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় এবং হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।

মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ

স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিমের কর বাতিল এবং কিছু লাইসেন্স ফি–সংক্রান্ত কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসে কর কমানো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকতে পারে।

ইলেকট্রিক যানবাহন

ইভি চার্জিং স্টেশন, বাস ও ট্রাকে কর শূন্য করার পাশাপাশি নিবন্ধন ফি কমানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।

সোনা ও প্রযুক্তিপণ্য 

সোনা উৎসে কর ও ভ্যাট কমানো এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে আমদানি কর হ্রাসের প্রস্তাব আসতে পারে।

দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের : 

সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য 

সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এ ছাড়া সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অ্যালকোহল 

দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

কাজুবাদাম

কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। ফলে এ পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

হিমায়িত মাছ 

উচ্চ মূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হতে পারে। এতে এসব মাছের দাম বাড়তে পারে।

রড 

দেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। ফলে রডের দাম বাড়তে পারে।

বিলাসী ও আমদানি পণ্য 

বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী পণ্য, আমদানি করা উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

আল রাজীব/ আয়না নিউজ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪