যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলমান থাকলেও দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত নৌযানকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এটিকে “আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ” বলে দাবি করেছে। খবর রয়টার্সের।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাকে সুরক্ষিত রাখতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। এমন সময় এ হামলার ঘটনা ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সংঘাত নিরসনে এখনই কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে ভারতের নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়।
তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, সেখানে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে সময়সীমাবদ্ধ আলোচনা শুরু করার মতো একটি শক্ত ভিত্তির প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে। আমরা আশা করছি কূটনীতি সফল হবে।”
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে”। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, “এটি হয় সবার জন্য একটি দারুণ চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অন্যদিকে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও লেবানন-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, আত্মরক্ষার দাবি তুলে এখনো হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যদিও ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ ছিল না হিজবুল্লাহ।
হাফিজ/ আয়না নিউজ