রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে আর জোটনির্ভর রাজনীতিতে না গিয়ে নিজেদের শক্তিতে সংগঠন গড়ে লড়াইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন “জোটের ভরসা নয়, নিজেদের শক্তিতেই লড়তে হবে।”
কোলকাতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসনে জয় পেলেও সেই ফলকে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের সূচনা হিসেবে দেখছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত দুই কংগ্রেস বিধায়ক মোতাফ শেখ (ফরাক্কা) এবং জুলফিকার আলির সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী।
বৈঠকে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সংগঠন পুনর্গঠন এবং তৃণমূল ও বামেদের সঙ্গে জোটনির্ভর রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে আসার ওপর। তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “এই জয় শেষ নয়, বরং শুরু।”
দলীয় সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে বুথস্তর থেকে সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে যুব, ছাত্র এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলিত ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জনসংযোগ জোরদারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে জোট রাজনীতির ওপর নির্ভর করলেও কংগ্রেস ক্রমশ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভোটব্যাংকের বড় অংশ তৃণমূল ও বিজেপির দিকে সরে গেছে। এই বাস্তবতা থেকেই দলটি এবার স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার দিকে ঝুঁকছে।
দলীয় নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দিনে দুর্নীতি, বেকারত্ব, নারী নিরাপত্তা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ইস্যু সামনে রেখে রাজপথে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেসের।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের মেরুকৃত রাজনীতি এবং বামেদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা—সব মিলিয়ে কংগ্রেসের সামনে পথ এখনও কঠিন। তবুও রাহুল গান্ধীর এই নির্দেশকে দলটির “আত্মনির্ভর রাজনৈতিক অবস্থান” গড়ার নতুন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ