সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের এলাকা থেকে আবারো ৮ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের আওতাধীন সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদেরকে কে অপহরণ করা হয়।
এদিকে অপহরনের খবরে পরিবারে সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
অপহৃত বনজীবীরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম গাজী (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর রহমান গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।
অপহরণকারীদের কবল হতে কৌশলে ফিরে আসা অপহৃত বনজীবীদের কয়েকজন সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে উক্ত ৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।
তাদের দাবি অপহৃত প্রত্যেক বনজীবীদের মুক্ত করতে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
বনজীবীদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনের অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নাম্বারে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেও মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দস্যুদের বিরুদ্ধে। টাকা পরিশোধের পরে অনেককে বনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরবনের বনজীবী অপহরণের বিষয় এখনো কোনো ভুক্তভোগীর পরিবার বা স্বজনরা তাদের কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোমিন/ হাফিজ/ আয়না নিউজ