এখন বাজারে দেখা মেলে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল জাম। গাঢ় বেগুনি বা কালো রঙের এই ফল শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় নয়, বরং এতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। ছোট্ট এই ফলটিতে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশের সমৃদ্ধ উপস্থিতি শরীরকে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে জাম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হজমশক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নয়ন এবং হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক জাম খাওয়ার উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রদাহরোধী উপাদান লিভারের কোষকে সুরক্ষা দেয়। লিভারে ফ্যাট বা চর্বি জমতে শুরু করলে কিছু এনজাইমের মাত্রা বেড়ে যায়। জামে থাকা আঁশ বা ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। কম ক্যালরিযুক্ত ফল হওয়ায় এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
নিয়মিত সীমিত পরিমাণে জাম খেলে সেই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যাদের প্রাথমিক স্তরের ফ্যাটি লিভার রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জাম বেশ উপকারী। চিকিৎসকদের মতে, উপকার পেতে প্রতিদিন এক মুঠো জামই যথেষ্ট। তবে এক দিন বেশি খেয়ে পরে বন্ধ করে দিলে লাভ হবে না।
লিভার ছাড়াও শরীরের আরো নানা উপকারে আসে এই ফল, যেমন :ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি বৃদ্ধি, ওজন নিয়ন্ত্রণ।
এতে কিছু সতর্কতা রয়েছ:
ওষুধের বিকল্প নয় : জামকে কখনোই লিভারের মূল ওষুধের বিকল্প ভাবা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি একটি সহায়ক খাবার মাত্র।
অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষতি : বেশি পরিমাণে জাম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে : যারা ডায়াবেটিসের নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জামের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। কারণ, এটি রক্তে সুগারের মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে।
সূত্র : দ্য ওয়াল
সূর্যয় / আয়না নিউজ