প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঋণনির্ভর উল্লেখ করে এর বাস্তবায়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সেখানে যুবসমাজ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে এসব খাতে বিভিন্ন ধরনের বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে এই নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন, তা এখনও দুর্বল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, বাজেটে উদারীকরণ, মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ সফল করতে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের থোক বরাদ্দ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ফলে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর ও সুশাসনভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর।
তিনি বলেন, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
হাফিজ/ আয়না নিউজ