নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে শাপলা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামীর দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি বিষপান করেছেন। এদিকে, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকায়। নিহত শাপলা আক্তার সদর উপজেলার দুহলী পূর্বপাড়া এলাকার ওলিয়ার রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী মোরসালিন একই উপজেলার গুলজার রহমানের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ ও শিশুর ভাষ্য নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শাপলা ও মোরসালিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাই আশিকুল ইসলামের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাপলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন মোরসালিন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শাপলা সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
শাপলার মা জানান, রোববার সকালে শাপলা ফোন করে তাকে মারধর ও গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরই মাঝাপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির ফোন থেকে জানানো হয় যে শাপলা মারা গেছেন। বিশেষ করে, দম্পতির চার বছর বয়সী শিশুটি জানিয়েছে সকালে সে তার বাবাকে মাকে মারধর করতে দেখেছে।
পাল্টা দাবি ও পলায়ন অভিযুক্ত মোরসালিন পলায়নের আগে দাবি করেছিলেন, তারা দুজনেই উত্তরা ইপিজেডে চাকরি করেন। বাসা ভাড়া নিয়ে পারিবারিক কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাপলা কীটনাশক পান করেন। তবে অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলে মোরসালিন তড়িঘড়ি করে মরদেহ রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এই পলায়নের ঘটনাটি পরিবারের মনে হত্যার সন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পুলিশের বক্তব্য নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে তদন্ত টিম পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে নিহতের শরীরের আঘাতের চিহ্ন বা বিষক্রিয়ার বিষয়টি ফরেনসিক রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুভাষ/ হাফিজ/ আয়না নিউজ