শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মেলাতে বেশি সময় লাগায় ভোটগ্রহণের গতি তুলনামূলক ধীর হওয়ায় ভোটের হার কিছুটা কম। বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত মনোনীত ও প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান এ তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠে রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন,নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো এলাকা ঢেকে রাখা হয়েছে। নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিম, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
এফ এ / আয়না টিভি