এ মামলার মোট ১৭ আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জন সেনা কর্মকর্তা। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ ও র্যাবের একাধিক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক।
আইএসপিআর জানায়, জানাজার আগে নিহত সেনাসদস্যদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে শোনানো হয়। পাশাপাশি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয়। এরপর সেনাসদস্যদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার নিজ নিজ জেলায় উদ্দেশে রয়না দেয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ চত্বর। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। পরে বেলা সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে।
, সকালেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলের মাধ্যমে মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়।
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণে তার জানাজা শুরু হয়। জানাজায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। হাতে জাতীয় পতাকা আর মুখে স্লোগান নিয়ে আসা এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে এবং ১৬টি প্রবেশপথ দিয়ে মানুষকে ভেতরে ঢোকাতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানাজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের উপস্থিতি ততই বাড়ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জানাজায় আসা নারীদের সংসদ ভবনের ঠিক বিপরীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গেটের পাশে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইতোমধ্যে তার জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে পৌঁছেছেন ড. ইউনূস। জানাজা প্রাঙ্গনে পৌঁছেছেন উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কিছু সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আব্দুল করিম খন্দকার, যিনি এ কে খন্দকার নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন প্রকৃত বীর ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে তিনি নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
এদিকে, এদিন ভোর থেকেই হাদিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই জড়ো হন হাসপাতালের সামনে। দেশে আজ (শনিবার) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকছে।