বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হয় না। বরং দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রোববার বিকেলে রাজধানীর পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সম্প্রতি দেশের জনগণের সামনে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার (ম্যানিফেস্টো) উপস্থাপন করেছে, যেখানে নারীদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারদের কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর স্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। যারা কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের খাদ্যের যোগান দেন, সেই কৃষক ভাইদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।” ক্রীড়াক্ষেত্রে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমিনুল একজনই নয়, আমিনুলের মতো শত শত খেলোয়াড় কীভাবে তৈরি করা যায়, সেটিও আমাদের পরিকল্পনায় আছে।”
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে এসেছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বহু মানুষ নির্যাতিত ও শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে চালু হওয়ায় লাখো নারী শিক্ষার আলো পেয়েছে। এবার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
বিগত ১৬ বছরে মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, দেশের অর্থ পাচার হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়নি।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতন হয়েছে, যেখানে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত ও ২০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না।