বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান আজ মঙ্গলবার তাদের ৩২তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করছেন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সেই থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে একসাথে নানা সংগ্রাম ও সফলতা অর্জন করেছেন।
ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, যিনি নৌবাহিনী প্রধান এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর ভাতিজি এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন।
জুবাইদা রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত ও সফল চিকিৎসক। ১৯৯৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর তিনি ২১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে ২০০৮ সালে লন্ডনে ইম্পেরিয়াল কলেজে কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তাঁর হৃদরোগ গবেষণা ও একাডেমিক কাজগুলো লন্ডনের চিকিৎসা মহলে প্রশংসিত।
২০০৮ সালের পর দীর্ঘ সময় সরকারি চাকরি থেকে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁর বিসিএস ক্যাডার বাতিল হয়। তবে বর্তমানে সেটি পুনর্বিবেচনার মধ্যে রয়েছে এবং তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনীতিতে জুবাইদা রহমানও সক্রিয়। তিনি তারেক রহমানের পাশে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
তাদের একমাত্র কন্যা, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিত।
ডা. জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’-এ বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিদর্শনে নিয়মিত সক্রিয়।
৩২ বছর দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবন বহু চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে দেশের ও সমাজের জন্য অবদান রাখার প্রতীক হয়ে উঠেছে।