বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তিনি ভোটার মাইগ্রেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অপ্রাসঙ্গিক সংস্থার অন্তর্ভুক্তি এবং তথাকথিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক সংস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা নির্বাচনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, শুধু তাদের নির্বাচন এলাকায় রাখা হোক। আজ বিএনসিসি আনা হচ্ছে, কাল হয়তো স্কাউট। এটি নির্বাচনকে অনিরাপদ করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের দুই দিন আগে বহিরাগত নেতা-কর্মীরা নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া উচিত, যাতে বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা কম থাকে।
৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক অনুমোদনের বিষয়টিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যাদের আসলে সক্ষমতা আছে, শুধু তাদেরই পর্যবেক্ষক হওয়া উচিত। এক কেন্দ্রে একসঙ্গে অনেক পর্যবেক্ষক ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।
নির্বাচনের আগে বিশেষ আসনে ভোটার স্থানান্তরের অস্বাভাবিকতার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে ৪-৫ জন থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার দেখানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হোল্ডিং নম্বর ছাড়াই ভোটার নিবন্ধন করা হয়েছে।
তাঁর মতে, বিভিন্ন এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিরোধী পক্ষ দমন করতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এই বিষয়টি তাদের কাছে অজানা।
নজরুল ইসলাম খান আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন তাদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করবে।