একটি মহল নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করছে। তারা ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়। এমনটাই মন্তব্য করেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি, নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েব নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেননি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি আপনারা ভোট দিতে। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা চলে গেছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৯ জানুয়ারি ) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
কৃষকদের আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, আমরা হিসাব-নিকাশ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যেভাবে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, সেভাবেই প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা ব্যাংক ঋণ, সরকারি সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পাবে।
রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা হবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে আইটি পার্ক সচল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ৭১ সালের যুদ্ধ কিংবা ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে কেউ কার ধর্ম দেখেনি। দেশ গড়ার সময়ও আমরা ধর্ম নয়, মানুষ হিসেবে বাংলাদেশিকে দেখব।
নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। তার আগমনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এদিন তিনি রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ১৩ জন সংসদীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী রাজশাহী জনসভা শেষে তিনি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে এটিএম মাঠে বক্তব্য দেওয়ার পর রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।