বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যেই মানুষ নতুন আশার আলো দেখছে। তিনি বলেন, যেখানেই তারেক রহমান যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে। ময়মনসিংহে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হয়েছে। কারণ মানুষ তার মধ্যে নতুন নেতৃত্বের আশা খুঁজে পাচ্ছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মলানী বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে, যাতে তারা ন্যায্য দামে সার ও বীজ পেতে পারেন। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভালো স্কুল প্রতিষ্ঠা, হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা ও সস্তা ওষুধ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা। যারা ভালো কাজ করতে চায়, জনগণ তাদেরই বিজয়ী করবে। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। “আমি রাজনীতি করে বাড়িঘর বানাইনি, বরং বাবার সম্পত্তি ও নিজের বসতবাড়ির অংশ বিক্রি করে রাজনীতি করেছি।
মির্জা ফখরুল জানান, এটিই তার শেষ নির্বাচন হতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর পাঁচ বছর পরে হয়তো নির্বাচন করতে পারব না। এটাই আমার শেষ অনুরোধ—আপনারা এবার আমাকে সমর্থন দিন, যেন আপনাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পাই।
তিনি বলেন, এবার নৌকা প্রতীক নেই, কিন্তু নতুন একটি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এসেছে। আপনারা আমাকে চেনেন, আমি কখনো আপনাদের ছেড়ে যাইনি।
সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কারণে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আমরা একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। ধানখেতে রাত কাটাতে হচ্ছে না, মিথ্যা মামলার আতঙ্কও অনেকটা কমেছে।