যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখা এবং প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর তিনি জোর দেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চাই না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে তা যেন বিভেদের কারণ না হয়। আলোচনা ও ঐক্যের মাধ্যমেই সামনে এগোতে হবে।”
তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা সবার জানা। তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
তারেক রহমান আরও বলেন, “আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। তবে আমরা কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।” তিনি জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’
দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এই কার্ডের মূল সুবিধাভোগী হবেন পরিবারের গৃহিণীরা।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক অথবা খাদ্য সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে—নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচি হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিগত বিভাজনের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে।
স্বাস্থ্যখাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান
স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই জনগণকে সচেতন করতে হবে।
এ লক্ষ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন।
তারেক রহমান বলেন, এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন, যাতে আমরা দেশের জনগণের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি।