পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা তিনটি মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৭ নভেম্বর ) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় পাঠ শুরু করেন।
রায় ঘিরে সকালে আদালতে আসেন দুদকের পক্ষে মামলাগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান। এসময় তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা তিনটি মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।’
মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর—১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ৪০৯, ৪২০ এবং ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারায় ঘুস গ্রহণ, সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, সরকারি সম্পদ বা আমানত অপব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধ সংঘটনে সহায়তার মতো অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে দুদকের অনুসন্ধানে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার চার্জশিটে দুদক উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনা নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে পরিবার সদস্যদের অনৈতিকভাবে প্লট বরাদ্দ করে দেন। তিন আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই ঢাকার নিম্ন আদালত এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের মূল ফটকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে আদালতপ্রাঙ্গণ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। এ ছাড়া রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথাও জানা গেছে।