কোনো দলীয় আনুগত্য বা লেজুড়বৃত্তি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে বর্তমান সরকার। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় সারাক্ষণ কেবল রাজনীতি নিয়ে পড়ে না থেকে মানুষের বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহবান জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলসমূহের প্রধান নির্বাহী এবং প্রধান বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
সচিবালয়ে দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান বার্তা সম্পাদকরা অংশ নেন।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ বাদ দিয়ে সত্যকে সত্য হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরার তাগিদ দেন বলে জানান গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বৈঠকের আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের একটা বড়ো দায়বদ্ধতা রয়েছে। কেবল রাজনৈতিক খবরাখবর বা বিতর্ক নয়, সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আরও বেশি গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের নানাবিধ চলমান সঙ্কট, নীতিগত সমস্যা ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে সরাসরি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে তাদের প্রতিটি সমস্যার কথা শোনেন। গণমাধ্যম যাতে কোনো রকম চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ