সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাজেট-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিশাল আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি চলছে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১ জুলাই থেকেই নতুন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময় থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন পাবেন।
সূত্র আরও জানায়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা সহজ করাই মূল লক্ষ্য।
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ২১ জানুয়ারি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন :
আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ গড়ার রাজনীতি : প্রধানমন্ত্রী
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাফিজ/ আয়না নিউজ