নবজাতক সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মা ও সৎ বাবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এ খুন সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শনিবার (৯ মে) রাতে বগুড়া সদর থানা পুলিশ মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ার একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই নবজাতকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিপা আক্তারের সঙ্গে গাবতলী উপজেলার বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর বিয়ে হলে একপর্যায়ে দাম্পত্য কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই অন্তঃসত্ত্বা হন নিপা।
আরও পড়ুন-
ট্রেনের ধাক্কায় ২৫ গজ দূরে ছিটকে ট্রাক, নিহত চালক
এ বছরের রমজান মাসে সদর উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের সঙ্গে নিপা আক্তারের দ্বিতীয় বিয়ে হলে শুক্রবার একটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। সন্তান প্রসবের পর স্বামী–স্ত্রী মিলে এক দিন বয়সী নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার দুপুরে পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আলী জানান, নবজাতকের বাবা নিপা আক্তারের আগের স্বামী। তাই দ্বিতীয় স্বামী ও মা মিলে নবজাতকের গলা কেটে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। হত্যা সন্দেহে আটক নিপা আক্তার ও দুলাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামপুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। নবজাতকের লাশ উদ্ধারের করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এফ এ/আয়না