| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রোববার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট টাইম: 12-06-2026 ইং
  • 19484 বার পঠিত
রোববার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) আগামী রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র। সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির ভাষা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শুধু তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করলেই হবে না, লেবাননেও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে সেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সূত্রগুলোর দাবি, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে পারেন।

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এ কারণেই তিনি নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধান করেছি।”

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে তেহরানের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়ায় ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পারমাণবিক ইস্যু ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

সমঝোতার সম্ভাব্য খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পর তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল।

তবে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেও বর্তমান শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষভুক্ত নয় ইসরায়েল।

অন্যদিকে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে এবং এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হলেও অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪