গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কথিত অবৈধ পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (৬ জুন) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা দেয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
এদিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় আরও ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্তে ৭ জন এবং দুর্গাপুর সীমান্তে আরও ৪ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বর্তমানে দুর্গাপুর সীমান্তের ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এছাড়া নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে রাখা হয়। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
অন্যদিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, বিদ্যমান বিধান এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ