বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিধানসভায় একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন গৃহীত ওই শোক প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ বার্তা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতায় পাঠানো হয়, যাতে তা মরহুমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শোক প্রস্তাবে বলা হয়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিধানসভার অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। তিনি দিনাজপুর মিশনারি স্কুল, দিনাজপুর গার্লস স্কুল এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি চারটি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারী ক্ষমতায়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বিধানসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে প্রধান সচিবকে শোকবার্তা পরিবারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয় এবং অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
হাফিজ/ আয়না নিউজ